নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবদল নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিপন (২৮) নামে এক যুবদল কর্মীর হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আল আমিন অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদকবিরোধী একটি বার্তা প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
তার দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে ইসমাইল হোসেন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ইট-বালুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকানের লোহার শাটার কুপিয়ে ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা নিয়ে যায়।
এ সময় বাধা দিতে গেলে কর্মী রিপনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন। তিনি পাল্টা দাবি করেন, ভারত থেকে চোরাই পথে আনা চকলেটবোঝাই একটি ট্রাক আটকে আল আমিন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা আদায় করেছিলেন। সেই অর্থ একাই আত্মসাৎ করায় তার নিজের সহযোগীরাই ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :