সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদে সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে অনিয়মের মাধ্যমে নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল রানাকে ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান, মোছা. রোজিনা খাতুনকে ২ নম্বর এবং বাবলু সূত্রধরকে ৩ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সচল রাখতে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনয়নের প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান পরিষদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান জুয়েল রানার স্বাক্ষর জাল করে তার পদত্যাগপত্র তৈরি করেন।
এরপর জুয়েল রানার নাম বাদ দিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নওশের আলীর নাম প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে প্রস্তাব আকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হলে নওশের আলীকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়নের আদেশ জারি করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউপি সদস্য জুয়েল রানা বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করে মিথ্যা পদত্যাগপত্র তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাকে প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অপরাধমূলক।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে এ ধরনের অনিয়ম ঘটছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। আগের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
এদিকে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :