• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, একদিনে আটক ৪৪০


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, একদিনে আটক ৪৪০

ফ্রান্সের উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা খাতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষে জায়গার সংকট ও শিক্ষকস্বল্পতাসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিন বিক্ষোভের ঘটনায় ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনটি কয়েক দিনের মধ্যে ইল-দ্য-ফ্রঁসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষকদের বাড়তি কাজের চাপও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে।

মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অন্তত ১০ জন শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ সদস্যও। ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের কারণে দেশটির অন্তত ৪০০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন এবং বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, মঙ্গলবার ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে সোমবারের বিক্ষোভে ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারি দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে নুনেজ পুলিশের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা নাকচ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী যথেষ্ট ভারসাম্য দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতা ও এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন তিনি, যেগুলো শিক্ষার্থী, স্কুলকর্মী বা সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়া নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, স্কুলের আশপাশে আগুন, আতশবাজি ও সহিংসতার মতো ঘটনা শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মী এবং পুলিশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির পাশাপাশি মঙ্গলবার ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর ডাকা ধর্মঘটও পালিত হয়। শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলো বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজের হিসাবে, দেশজুড়ে এসব ধর্মঘটে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নেন। তবে অধিকাংশ এলাকায় ধর্মঘট ও বিক্ষোভ বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে।


Side banner
Link copied!