সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। গেজেট প্রকাশের পর অক্টোবর থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করে পরবর্তী সময়ে বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পে-স্কেল কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজও শেষের দিকে।
চূড়ান্ত সুপারিশের আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠক হতে পারে। সেখানে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সুপারিশ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন কত শতাংশ বাড়বে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় পে-স্কেল কমিশনের সব সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন বা সীমিত করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষ করে মূল বেতন বৃদ্ধির হার এবং কয়েকটি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শেষ হলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে এর আগে গেজেট প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বর্তমানে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মীরা বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোয় জুলাই থেকে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
তবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ধিত বেতনের পার্থক্য একবারে পরিশোধ না করে কয়েক ধাপে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। মূল্যস্ফীতির চাপ ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয় বিবেচনা করে বকেয়া অর্থ ধাপে ধাপে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এতে সরকারের ওপর এককালীন বড় আর্থিক চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর আগে জানিয়েছেন, ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং চলতি অর্থবছরেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এর বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে হতে পারে। প্রাথমিকভাবে মূল বেতন কার্যকর করে পরবর্তী সময়ে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সুতরাং সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মন্ত্রিসভার অনুমোদন, আইনগত যাচাই ও গেজেট প্রকাশের ওপর।
আপনার মতামত লিখুন :