নানা অভিযোগের পরও অবৈধ মৎস্য আড়ত উচ্ছেদে গরিমসি করায় সিরাজগঞ্জ জেলা ও রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এলাকাবাসী।
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ৫ গ্রামের ১২১ জন ব্যক্তি স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ প্রধামন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য জাকারিয়া হোসেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও ভুমিমন্ত্রী বরাবর পৃথক দুটি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে পতিত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাসেল, আব্দুল মোন্নাফ, মাহবুব, সুলতান মেম্বর, ইকবাল মন্ডল, লঙ্কেশ্বর হালদার, আব্দুল হান্নান, হাফিজুল ইসলাম, সাধন হালদার, কালা হালদার, শোভন ও নুরুসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এই আড়তটি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আড়তটির মাধ্যমে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে তারা। প্রতিদিন দুই কোটি টাকার লেনদেন হলেও সরকারি পেরিফেরিভুক্ত না হওয়ায় এক টাকাও রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। তবে আড়তদার ও যানবাহন থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা চাঁদা নিচ্ছে এই চক্রটি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জনবহুল এলাকায় এই আড়ত বসানোর ফলে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিলিন হতে চলেছে ঐতিহ্যবাসী সলঙ্গা হাঁট।
এই আড়তটি উচ্ছেদে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কুতুবের চর অবৈধ আড়তের কারণে ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাঁটের ইজারাদার ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া আড়ত পরিচালনাকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছে।

অভিযোগকারী ইসমাইল হোসেন, আক্তারুজ্জামান, আব্দুর রশিদ ও জাকারিয়া হোসেন বলেন, সলঙ্গার হাজারও মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশে তিন বছর ধরে সরকারি পেরিফেরি ছাড়া অবৈধভাবে কুতুবের চর মৎস্য আড়ত পরিচালিত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী এই অবৈধ আড়ত উচ্ছেদে জেলা প্রশাসন বরাবর একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবী প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিষ্টরা হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে আড়তটি পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানলাম।
তবে উচ্ছেদ নয়, উল্টো পেরিফেরি অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র রেডি করে রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা পেরিফেরির জন্য রেডি করে রেখেছি, নকশা বানিয়ে রেখেছি। হাইকোর্টে মামলা থাকার কারণে পেরিফেরি করতে পারছি না। ওই আড়তটির অধিকাংশ জমি পাবলিকের। তারা ৩০ শতাংশ জমি পেরিফেরির জন্য সরকারকে লিখে দিয়েছেন। কিন্তু পাশেই আরেকটি পেরিফেরিভুক্ত আড়তের পক্ষ থেকে রিট করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বসে নেই এইটা নিয়ে কাজ করছি। গত সপ্তাহে একটা মিটিং করে রিটটাকে কিভাবে খারিজ করা যায় সেটার জন্য আলাদাভাবে ল’ইয়ারকে দায়িত্ব দিয়েছি।
আপনার মতামত লিখুন :