লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলীর স্টেনোগ্রাফার ও ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রসিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, পদে স্টেনোগ্রাফার হলেও বাস্তবে দপ্তরের প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তে তিনিই নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুর রসিদ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত। এই দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দপ্তরের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবদুর রসিদ কয়েকজন নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সঙ্গে নিয়ে গোপন টেন্ডার ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করে দেন। বিনিময়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের কমিশন। ঠিকাদারদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও কমিশন ছাড়া কোনো কাজ পাওয়া সম্ভব হয়নি।
একাধিক ঠিকাদার জানান, কাজ পেতে হলে আগেই নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হতো। টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিল ছাড় পর্যন্ত সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হতো রসিদ-কেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, যে সময় যে রাজনৈতিক দলের প্রভাব বেশি, সে অনুযায়ী আবদুর রসিদ নিজেকে দলীয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কাজ আদায় করে নিতেন। তবে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করলে রসিদও কৌশলে নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
একজন স্টেনোগ্রাফার হয়েও কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি দপ্তরের টেন্ডার, ঠিকাদারি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন—এ প্রশ্ন এখন ঘুরছে প্রশাসনিক মহলে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরবতা এবং কার্যকর নজরদারির অভাব এই দুর্নীতির রাজত্ব দীর্ঘস্থায়ী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আপনার মতামত লিখুন :