• ঢাকা
  • শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বাসর রাতেই শেষ সব আনন্দ:বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরের করুণ মৃত্যু, বৌভাতের আয়োজনে জানাজা


FavIcon
মোঃ সোহাগ বকাউল
প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
বাসর রাতেই শেষ সব আনন্দ:বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরের করুণ মৃত্যু, বৌভাতের আয়োজনে জানাজা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিয়ের আনন্দ ও উৎসবে এক মুহূর্তে নেমে এসেছে চরম শোকের ছায়া। নববধূকে ঘরে তোলার পরদিনই যেখানে ছিল বৌভাতের জমকালো আয়োজন, সেই রাতেই স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে নববর আহমেদ আনাস বাপ্পির (২২)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিনগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া (উত্তরপাড়া) এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত আনাস বাপ্পি ওই এলাকার ইউসুফ আলীর (মোল্লা) ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের (১৮) সঙ্গে আনাসের বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নববধূ সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) ছিল তাঁদের বৌভাতের অনুষ্ঠান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নববধূকে ঘরে তোলার পর থেকেই বাড়িতে চলছিল বৌভাতের প্রস্তুতি ও তদারকি। অতিথিদের আপ্যায়ন, প্যান্ডেল তৈরি এবং নাচ-গানের আয়োজনে বাড়ির পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। রাত গভীর হলেও আনাস নিজেই সবকিছু দেখভাল করছিলেন। রাত ২টার দিকে প্যান্ডেলের পাশে থাকা একটি বিদ্যুতায়িত স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িতে ছিল বিয়ের উৎসব আর হাসিকান্না, মুহূর্তের মধ্যে সেই বাড়ি পরিণত হয় স্বজনদের আহাজারি ও কান্নার রোলে। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ১৮ বছর বয়সী নববধূ সাইরা খাতুন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "দুই মাস আগে বিয়ে হলেও বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কনে তুলে আনা হয়েছিল। শুক্রবারের বৌভাতের সমস্ত আয়োজন বিদ্যুৎস্পৃষ্টের এই একটি দুর্ঘটনায় নিমিষেই শেষ হয়ে গেল।"

নিহত আনাসের সাবেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহসিন রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় স্মৃতিচারণ করে লেখেন, মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে (১৯ আগস্ট) আনাসের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হয়েছিল। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পুলিশ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।"

বৌভাতের আনন্দ আর নববধূর স্বপ্নের সূচনার সকালেই আনাসের এমন আকস্মিক বিদায়ে পুরো এলাকায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।


Side banner
Link copied!