• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

তিতাসে নতুন দুই গ্যাসকূপ খননে ৫৯২ কোটি টাকার প্রকল্প


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
তিতাসে নতুন দুই গ্যাসকূপ খননে ৫৯২ কোটি টাকার প্রকল্প

দেশের বৃহত্তম তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামের কূপ দুটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা।

‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং বিজিএফসিএলের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের পর প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ব্যয় ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, নতুন কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন সম্ভব হতে পারে। উৎপাদিত গ্যাস ও কনডেনসেটের মূল্য বর্তমান উৎপাদনস্থলের দর অনুযায়ী আনুমানিক ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দাম বিবেচনায় ১০ বছরে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াতে পারে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

বর্তমানে বিজিএফসিএলের ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার জন্য বিজিএফসিএল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে নিয়োগ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি তিতাস ও বাখরাবাদে ১৬টি নতুন কূপ এবং সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

সরকারের স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ খনন, দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ এবং গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের তথ্য অনুযায়ী, সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি আমদানি কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। তবে তিতাসের নতুন কূপ দুটির উৎপাদন ও আর্থিক সুফল প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং প্রকৃত উৎপাদনের ওপর নির্ভর করবে।


Side banner
Link copied!