• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

রংপুরের চার খুনে আসামির শার্ট ঘিরে প্রশ্ন, পুলিশের ব্যাখ্যা


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
রংপুরের চার খুনে আসামির শার্ট ঘিরে প্রশ্ন, পুলিশের ব্যাখ্যা

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির একজনের পরা শার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে থাকা রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ায় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে পুলিশের বক্তব্য, একই ধরনের পোশাক একাধিক ব্যক্তির পরনে থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং শুধু পোশাকের মিলের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

রোববার (২৩ আগস্ট) সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এ কারণে তাদের নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য।

 

হত্যাকাণ্ডের দিন স্থানীয়ভাবে প্রচারিত ভিডিও ও ছবিতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এমন একটি শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা গ্রেপ্তার এক আসামির শার্টের সঙ্গে দেখতে অনেকটা একই রকম বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একই ধরনের শার্ট ভিন্ন মানুষ পরতেই পারেন। ফলে শুধু পোশাকের মিলকে কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি, যাতে ওই শার্টের মিলের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই যুবক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জিও তাদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় তাদের একজন পালিয়ে গিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগান এলাকায় লুকানোর চেষ্টা করেন। পরে দখীগঞ্জ শ্মশানের কাছ থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

রংপুর মহানগর পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ইয়াবা সংগ্রহ করে একটি নির্মাণাধীন ভবনে বসে মাদক সেবন করছিলেন। পরে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে শব্দ শুনে গণপতি ছাদে গেলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দাবি করছে, প্রথমে গণপতিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি দেখে ফেলায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও হামলার শিকার হন।

তবে ঘটনার স্থান, আসামিদের গতিবিধি এবং হত্যাকাণ্ডের সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে এখনো বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নও তোলা হয়েছে। বিশেষ করে, মাদক সেবনের জন্য অভিযুক্তদের কাছে অন্য একটি নির্মাণাধীন ভবনের খালি জায়গা ও ছাদ থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, অল্প সময়ে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে পুলিশের কার্যক্রমের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

 

এরই মধ্যে চারজনের ময়নাতদন্তে ফরেনসিক বিভাগ প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। নিহতদের মুখমণ্ডলে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কোনো আলামত না পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চোয়াল ভাঙার বিষয়েও ময়নাতদন্তে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চারটি মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য মিলবে।


Side banner
Link copied!