• ঢাকা
  • রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শুভ মহালয়া আজ, শুরু দেবীপক্ষের ক্ষণগণনা


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
শুভ মহালয়া আজ, শুরু দেবীপক্ষের ক্ষণগণনা

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) উদযাপিত হচ্ছে শুভ মহালয়া। মহালয়ার মধ্য দিয়ে অবসান হচ্ছে পিতৃপক্ষের, শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। একই সঙ্গে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনাও শুরু হচ্ছে এই তিথিতে।

মহালয়া শুধু দেবী দুর্গার পূজার প্রস্তুতির সূচনাই নয়, প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুসারে, এদিন অনেকে জল, তিল ও অন্ন নিবেদনের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করেন।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার সন্ধিক্ষণ হলো মহালয়া। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মন্দিরে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আবাহন করা হয়। মহালয়া উপলক্ষে মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ পূজা এবং ঘট স্থাপনের আয়োজনও করা হয়।

পুরাণকথা অনুযায়ী, মহালয়ার তিথিতেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার দায়িত্ব লাভ করেন। কাহিনি অনুসারে, মহিষাসুর ব্রহ্মার বর পেয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে। তাকে পরাজিত করতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে মহামায়ার আবির্ভাব ঘটে। দেবতাদের দেওয়া বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং নয় দিনের লড়াই শেষে তাকে বধ করেন বলে ধর্মীয় কাহিনিতে বর্ণিত রয়েছে।

মহালয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো তর্পণ। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার মঙ্গল কামনা করা হয়। এদিন অনেকেই নদী বা জলাশয়ে গিয়ে জল ও তিল নিবেদনের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মহালয়াকে ঘিরে ভোরের চণ্ডীপাঠ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং দেবী দুর্গার আগমনী আবহে শুরু হয় শারদীয় উৎসবের প্রস্তুতি। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ায় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে দুর্গাপূজাকে ঘিরে আনন্দ ও উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ে।


Side banner
Link copied!