• ঢাকা
  • রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

গৃহায়নে দুর্নীতিবাজিদের রক্ষায় মরিয়া জামাতের এজেন্ট চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০১:১১ পিএম
গৃহায়নে দুর্নীতিবাজিদের রক্ষায় মরিয়া জামাতের এজেন্ট চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম

নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলাম ও মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ সহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কথায় চলছে গৃহায়নের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম। তাঁর দপ্তরের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে যারা তাকে সমর্থন দিচ্ছেন তারা তার চোখের মনি। জাতীয় গৃহায়ন যেন তার পৈতৃক সম্পত্তি ভাবছেন চেয়ারম্যান। গণপূর্ত সচিবের সাথে দন্ধ, প্রাক্তন সচিব নজরুলের দিকনির্দেশনায় দপ্তর চালাচ্ছেন এবং মন্ত্রীর সাথে তার উঠাবসা জোর গলায় বলে বেড়াচ্ছেন চেয়ারম্যান ফেরদৌসী। 


খোজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলামে যিনি চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের আস্থাভাজন হিসেবে স্বীকৃত, অফিস চলাকালীন সময়ে সার্বক্ষনিক চেয়ারম্যান দপ্তরে উপস্থিত থাকা এবং চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের সাথে মন্ত্রণালয়ে সরকারী গাড়ীতে যাওয়া আসা প্রমান করে, তিনি চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের আস্থাভাজন। নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলাম ও  মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদের ভূমি শাখায় পদায়ন ও গুরত্বপূর্ণ কাজ পাইয়ে দেয়ায় ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলামের বিষয়ে খোজ নিয়ে জানা যায়, তিনি দুদক কর্তৃক দুর্নীতির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অভিযুক্ত এবং মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মো. অলিউল ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী প্লানিং এর  চলতি দায়িত্ব দেন চেয়ারম্যান ফেরদৌসী। 

২৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিঃ আদেশে মোহাম্মাদ হাবিবুর অতিরিক্ত (সচিব) কে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেও কোন ক্ষমতা বলে মাত্র ৩ দিনের মাথায় পূনর্বহাল হয় চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম। 
ফেরদৌসী বেগম অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জামাতি পরিচয়ে যুগ্ম সচিব হয়েও সিনিয়র অতিরিক্ত সচিবের পদে বসে পড়েন। শুরু হয় দাম্ভিকতা। 


চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম এর অনিয়ম দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার কারনে সরকার হারিয়েছে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব। চেয়ারম্যান এর অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করলে ও তার রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যার কারনে সে পুনরায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে এসেছেন। চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী প্রতিবাদ করলেই তাদের কে বিভিন্ন জেলায় বদলি সহ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ ফুয়াদ ও অলিউরের মতো কর্মকর্তারা তার চোখের মনি। কিন্তু তাদের নামে রয়েছে দুদকের তদন্ত এবং একাধিক ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ । 


  
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে ৩২টি বানিজ্যিক প্লটের বরাদ্দের  বিজ্ঞপ্তি কোন প্রকার তদন্ত ও যাচাই বাছাই ছাড়া আইনের মতামত না নিয়ে দেয়া হয়। তখন থেকে শুরু হয় কানাঘুষা। শুধু মাত্র জামাতের লোকদের সুযোগ করে দিতে এহেন তড়িঘড়ি করেছে চেয়ারম্যান ফেরদৌসী সেই অভিযোগও  উঠেছে। 
অথচ বিভিন্ন প্লটের উপর অভিযোগ থাকলেও তা আমলে নেয়নি এই চেয়ারম্যান। শতো অভিযোগের পরেও চেয়ারম্যান সিন্ডিকেট প্লট গুলো বরাদ্দপত্র দেয়ার অভিযোগ উঠে।  অনুসন্ধান কালে জানা যায়, সেকশন ১, ব্লক জি, হট নং- ১/১, এর মৃত বন্দে আলীর অনুকুলে সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয় অধিগ্রহণ শাখা ১০, ৫ ডিসেম্বর অবমুক্ত করেন ৩০ শতাংশ ভূমি। বিগত ১৫ ডিসেম্বর ২০০২ সালে গেজেট প্রকাশ করেন। যা বিগত ২৯ আগস্ট ২০০২ স্মারক নং-ভূঃ মঃহঃ দঃ/শা-১০/ঢাকা ৫৯/২০০১ মোতাবেক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় শাখা- ১০ থেকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গৃহায়ণ ভবন) সেগুনবাগিচা, ঢাকা বরাবরে তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি ভূমি মন্ত্রণালয় স্মারক নং ভূঃ মঃ/ শাঃ ১০/ ঢাকা-৫৯/২০০১ আইনের ৮ (বি) দ্বারা মোতাবেক ১৩/৫৯/৬০ নং এল/এ,কেসটি ভূমি মন্ত্রনালয় সিদ্ধান্ত গ্রহনের নোটিশ পাঠায়। যা পূর্বে জাগৃক এর 
ফাইলে রক্ষিত আছে। এবং মৃত বন্দে আলী মিয়া ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ বলে বন্দে আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর প্রতিবেদককে জানায়, যার পার্ট ফাইল নং ১০৬/১৩। এ প্রতিবেদক অনুসন্ধানে আর ও জানতে পারেন যে, ৩০ থেকে ২০২৫ সালে ও বন্দেআলীর ভাড়াটিয়া ইমাম শতাংশ তুমি এর উপরে বিগত ২০১১ সাল থেকে নাসিম এর স্ত্রী মাকসুদা হোসেন মহামান্য  আদালতে হোসেন নাসিম এর রিট পিটিশন কর করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্হায় চেয়ারম্যান শিল্প প্লট ও ব্যক্তিমালিকানা প্লট কে কি ভাবে বানিজ্যিক প্লট করে টেন্ডার বিজ্ঞাপন ও বরাদ পত্র দিলেন সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে?  এ বিষয় মৃত বন্দে আলী মিয়া ওয়ারিশগন লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। 

জাসদ ছাত্রলীগের এই কুখ‍্যাত ক‍্যাডার ডিআইজি রেজাউল ( পিপিএম) হাসিনার আমলে ফেনি ও রাজবাড়ী জেলার মত অতি গুরুত্বপুর্ন জেলার এসপি, ফেনী জেলাতে বিএনপি নেতাদের ক্রসফায়ার দেয়া ফ্যাসিস্ট বর্তমানে শিল্প পুলিশের ডিআইজির স্ত্রী জামাতের এজেন্ট অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া মোসা:ফেরদৌসী এখনও জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান। বিএনপির লোক দেখলে তার গাজ্বলে। বিএনপি নেতাদের অফিসে ঢুকতে বাধা প্রদান, অবৈধভাবে জামাতিদের নামে ফ্লাট বরাদ্দ সিনিয়র অতিরিক্ত সচিবের পদে যুগ্ম সচিব থাকা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব গ্রহণ, সহায়তা করেন তৎকালীন গুপ্ত জামাতি সংগঠনের সচিব নজরুল ইসলাম। সব মিলিয়ে এখন জাতীয় গৃহায়ন যেন নিজের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করছেন চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম।

জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই মহারানীর ক্ষমতার উৎস কোথায়? কেউ কেউ বলেন, তার ক্ষমতার উৎস পতিত আওয়ামীলীগ  কারন । আওয়ামীলীগ আমলে তিনি বহালতবিয়তে গত ১৭ বৎসর রাজধানী ঢাকার বাহিরে যেতে হয়নি , আবার কেউকেউ বলেন, তার ক্ষমতার উৎস তার ডিআইজি স্বামী ( কারন তার স্বামী হাসিনার আমলে ফেনী ও রাজবাড়ী জেলার এসপি গিরি করলেও ইন্টারিম পিরিয়ডে খুলনা রেন্জের ডিআইজি পরে বিএনপির আমলে শিল্প পুলিশের ডিআইজি হন কেবল বগুড়ার নাগরিক বলে )। তিনি বলে বেড়ান যতদিন পুর্ত মন্ত্রী আছেন ততদিন তিনি চেয়ারম‍্যান আছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যাইনি ।


Side banner
Link copied!