বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আবারও বেড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুর দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ৫,১৮৭ মার্কিন ডলারে লেনদেন হয়েছে। আগের দিন এ দাম ছিল ৫,১৬৫ ডলার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় প্রতি আউন্সে প্রায় ২২ ডলার বেড়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই সোনার বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা চলছে। জানুয়ারির শেষ দিকে প্রতি আউন্স ৫,৫৯৪ ডলার ছুঁয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায় সোনা। বর্তমানে দাম কিছুটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় মূল্য প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই সোনার দর বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি প্রধান কারণ সোনার বাজারকে প্রভাবিত করছে—
১. মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা:
ইরানকে ঘিরে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ছে।
২. যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি:
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ডলারের বিকল্প হিসেবে সোনায় ঝুঁকছেন।
৩. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় বাড়া:
বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বৈচিত্র্য করতে ডলারের বদলে সোনা সংগ্রহ বাড়িয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ সীমিত থাকায় বাজারদরে চাপ তৈরি হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসও ঊর্ধ্বমুখী। বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান UBS ও Goldman Sachs ধারণা করছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৪০০ থেকে ৬,৩০০ ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।
সব মিলিয়ে অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ আরও বাড়ছে।
আপনার মতামত লিখুন :