প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাংকিং কার্যক্রম সহজ করতে নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্টের (এনআরসিটিএ) নিয়মে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থায় বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ জমা রাখা, দেশে ব্যয় ও বিনিয়োগ, জমার বিপরীতে ঋণ নেওয়া এবং মূল অর্থসহ অর্জিত সুদ বা মুনাফা বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মে প্রবাসীরা শুধু অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট নয়, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকেও এনআরসিটিএ হিসাব খুলতে পারবেন। এতে তাঁদের ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়বে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হিসাব পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রবাসীরা সঞ্চয়ী, চলতি ও মেয়াদি—এই তিন ধরনের হিসাব খোলার সুযোগ পাবেন। বিদেশ থেকে ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস কিংবা মানি ট্রান্সফার অপারেটরের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ এসব হিসাবে জমা করা যাবে। পাশাপাশি নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব থেকে স্থানান্তর করা অর্থও জমা রাখার সুযোগ থাকবে।
এ হিসাবে জমা অর্থ দিয়ে দেশে দৈনন্দিন খরচ মেটানো, অন্য ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর এবং অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করা যাবে। ফলে দেশে থাকা পরিবারের ব্যয় নির্বাহ ও বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে প্রবাসীদের জন্য হিসাবটি আরও কার্যকর হবে।
এ ছাড়া এনআরসিটিএ হিসাবে জমা অর্থ জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হিসাবের মূল অর্থ এবং তা থেকে অর্জিত সুদ বা মুনাফা নির্ধারিত নিয়মে বিদেশে পাঠানো যাবে।
প্রবাসীদের দূর থেকেই ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থায় গুরুত্ব পেয়েছে। ব্যাংকগুলো অনলাইনে হিসাব খোলা এবং ই-ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের হিসাব পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেন আরও সহজ হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসীদের অর্থ জমা, দেশে অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিকল্প বাড়বে। তবে নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :