• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭ মে, ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ঈদযাত্রা হোক নির্বিঘ্ন নিরাপদ


FavIcon
আলোকিত ডেস্কঃ
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৩, ০৯:৫৫ পিএম
ঈদযাত্রা হোক নির্বিঘ্ন নিরাপদ
ছবি - সংগৃহীত

ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করা বাংলাদেশের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জের বিষয়। নাড়ির টানে বাড়ির পানে ছুটতে থাকে মানুষ। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আর ক'দিন বাদেই ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা শহর থেকে ঢল নামবে ঘরমুখো মানুষের। তাই রেলের পাশাপাশি সড়ক ও নৌপথে যানবাহনের সংখ্যা এবং ট্রিপ কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। ঈদযাত্রায় ঝুঁকি ও বিড়ম্বনার কিছু কারণ রয়েছে এবং প্রতি বছরই উৎসব উদযাপনে বাড়ি ফিরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যায় বিপুলসংখ্যক মানুষ, আহত হয় অনেকে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ভোগান্তি-বিড়ম্বনার কারণ। জোড়াতালি দিয়ে রঙচঙ করা বিপুলসংখ্যক বাস-লঞ্চ যাত্রী পরিবহণের জন্য কতটা নিরাপদ এবং এর ইঞ্জিন কতটা ক্রটিমুক্ত তা নজরদারির বিশেষ কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি ঈদযাত্রায় নতুন করে যুক্ত হওয়া এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহন কারা চালাবেন, তারা আদৌ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিনা এবং তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা- তা যাচাইয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ কোনো প্রস্তুতি নেই। এ সময় সড়কে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে তাই স্বাভাবিকভাবে সড়কে যানবাহন তদারকি বাড়াতে হবে। ঈদের সময় যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সড়কে মোটরসাইকেল নামার প্রবণতাও বাড়বে, এটাও কর্তৃপক্ষকে মনে রাখতে হবে। ভারী হোক, হালকা হোক কিংবা ছোট সড়ক হোক আর বড় সড়ক হোক, যানবাহন চলাচলের জন্য যে আইন ও বিধিনিষেধ আছে, সেটা সবাইকে মেনে চলতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, নিজে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে যেন অন্যের যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ না করে ফেলি। ঈদ উদযাপনে পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় অন্যান্য সময়ের তুলনায় দক্ষিণবঙ্গের ঈদযাত্রা অপেক্ষাকৃত স্বস্তির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর। নানা বিড়ম্বনা যেমন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কালোবাজারে চড়া দামে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা, টোল প্লাজায় অনাকাক্সিক্ষত সময়ক্ষেপণ, রাস্তায় রাস্তায় চাঁদাবাজি, রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নানা অব্যবস্থাপনা, হাইওয়েতে অব্যবস্থাপনা, ফেরিঘাটে যাত্রী এবং যানবাহনের চাপে দীর্ঘ যানজট এবং বিভিন্ন টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইন প্রভৃতি। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রা একটা কঠিন যাত্রায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় প্রতি বছর। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লাখ লাখ মানুষের ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে যেহেতু অধিকাংশ মানুষ ভ্রমণ করে, সেক্ষেত্রে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার পাশাপাশি যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টিকেউ সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা ঈদযাত্রায় অনেক সময় নানা দুর্ঘটনা ঘটে। লঞ্চডুবির ঘটনা প্রায়ই আমরা দেখতে পাই। সুতরাং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করার ব্যাপারটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদারকির প্রয়োজন। বিশেষ করে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী না তোলা এবং ট্রেনের ছাদে যাতে কোনো যাত্রী ভ্রমণ করতে না পারে সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মহাসড়কগুলোর যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের সংখ্যা এবং তৎপরতা বাড়ানোকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেয়া জরুরি। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথগুলোয় যাতে কোনোভাবে যানজটের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ করে নজর দিতে হবে। ঈদযাত্রায় স্বস্তি নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলার সঙ্গে যানবাহন চলাচল করতে দিতে হবে। আনন্দের ঈদযাত্রা যেন শোকের যাত্রা না হয়, সে বিষয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।


Side banner
Link copied!