২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্য থাকলেও রাজধানী ঢাকায় রোগটির সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬০ জন। আর গত বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের বেশি, মৃত্যু হয় ১৬ জনের। অধিকাংশ সংক্রমণ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও ঢাকায় বাহক মশার উপস্থিতি নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে ঢাকা উত্তর সিটির কয়েকটি জোনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যানোফিলিস মশা শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, রাজধানীতে এই মশার ঘনত্ব বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যালেরিয়া একবার গুরুতর আকার নিলে তা দ্রুত শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে এখনই নজরদারি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং প্রস্তুতি জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতের কারণে সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ওষুধের সহজলভ্যতা ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে বাহক মশার উপস্থিতি সামনে রেখে নতুন করে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ কার্যক্রম সক্রিয় করা জরুরি।
করোনার পর পুরোনো সংক্রামক রোগগুলোর পুনরুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে ম্যালেরিয়ার এই সতর্কসংকেত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :