ঢাকার যানজট ও সড়কে বিশৃঙ্খলা কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)নির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর এবার রাজধানীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এআই ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন স্থাপনাগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২টি পয়েন্ট রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তত্ত্বাবধানে তৈরি প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহনের চাপ অনুযায়ী সিগন্যাল পরিচালনার পাশাপাশি সড়কে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
নতুন প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, সিগন্যাল পরিচালনার জন্য সবসময় আলাদা অপারেটরের প্রয়োজন হবে না। সড়কের বিভিন্ন দিকের যানবাহনের চাপ বিশ্লেষণ করে সিস্টেম নিজেই সিগন্যালের সময় নির্ধারণ করতে পারবে।
তবে জরুরি পরিস্থিতি বা বিশেষ প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ট্যাবের মাধ্যমে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এতে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
রাজধানীর কয়েকটি স্থানে এআইনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহারের পর চালকদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা। অনেক চালকের মতে, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ও আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা আগের তুলনায় সিগন্যাল মেনে চলার বিষয়ে বেশি সচেতন হচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তারাও প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ট্রাফিক আইন অমান্যের অভ্যাস পরিবর্তন করা সহজ নয়। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এআইভিত্তিক সিগন্যাল ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সচল রাখা ও কারিগরি তদারকি নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে বিশেষায়িত জনবল প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ‘ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট’কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :