বাংলাদেশে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ ও সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর ফলে হালাল পণ্যের মান ও সনদ ব্যবস্থাপনা সরকারি দায়িত্বের স্পষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে এসেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট অংশে পরিবর্তন আনার কথা জানানো হয়েছে।
সরকারের সংশোধিত কার্যবিধির শিডিউল-১-এ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের তালিকায় হালাল মান ও সনদসংক্রান্ত একটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। এর আওতায় হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ এবং সনদ দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশে হালাল পণ্যের সনদ প্রদান ও মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি কর্তৃত্ব আরও সুস্পষ্ট হলো।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পণ্যের হালাল মান যাচাই এবং সনদ দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে এই কাজের আইনগত ভিত্তি নিয়ে আগে প্রশ্ন ওঠার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এখন ‘রুলস অব বিজনেস’ সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের তালিকায় বিষয়টি সরাসরি যুক্ত হওয়ায় হালাল মান ও সনদ ব্যবস্থাপনা একটি স্পষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর আওতায় এলো।
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে হালাল সনদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব, মান নির্ধারণ ও তদারকির কাঠামো আরও সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় বাজারে হালাল দাবিকৃত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং সনদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে খাদ্য, প্রসাধনী ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে হালাল মান নিয়ে ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ায় সনদ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ, যাচাই এবং সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
আপনার মতামত লিখুন :