নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে তাঁকে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে দলটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটির নেতারা।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি শিগগিরই নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দলীয় আদর্শ ও নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষ্য, গাজী নজরুল ইসলাম এখন আর জামায়াতের সদস্য নন। তাই তিনি স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে না দাঁড়ালে সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এদিকে গাজী নজরুল ইসলাম এখনো পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দলত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বিধান থাকলেও, দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সংসদ সদস্যপদের কী হবে—সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের আইন ও বিধিমালা সংশোধন কমিটির প্রধান এবং নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, স্পিকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিঠি এলে কমিশন বিষয়টি আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি ফৌজদারি মামলাও দায়ের হয়েছে। অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :