• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা জোরদারে নতুন নির্দেশনা, জেলা-মহানগর নেতাদের চিঠি জামায়াতের


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা জোরদারে নতুন নির্দেশনা, জেলা-মহানগর নেতাদের চিঠি জামায়াতের

দলীয় শৃঙ্খলা, নৈতিকতা এবং সাংগঠনিক ভাবমূর্তি রক্ষায় নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্যে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের আমিরদের কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদেরও নৈতিক আচরণ, দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা এবং দলীয় আদর্শ অনুসরণের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনায় দলকে ঘিরে জনমনে আলোচনা তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাংগঠনিক শৃঙ্খলা আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম বা দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা দলীয় নীতির অংশ। তাঁর ভাষ্য, নারী ও পুরুষ সদস্যদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত যে নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি নতুন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের অভ্যন্তরে অনুসরণ করা হচ্ছে।

দলীয় নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধুমাত্র ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত পুরুষ রুকন এবং শুধুমাত্র ছাত্রদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী রুকন সদস্যদের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলে ও মেয়ে উভয়েই অধ্যয়ন করে, সেখানে দায়িত্ব পালনে কোনো সাংগঠনিক বাধা থাকবে না।

কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইসলামী আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে সদস্যদের নৈতিক নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, নৈতিক বিচ্যুতির ঘটনা শুধু ব্যক্তিকেই নয়, পরিবার, প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অন্যদিকে, দলটির কিছু নেতাকর্মী নতুন নির্দেশনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে অনেক শিক্ষককে চাকরি ও দলীয় সদস্যপদের মধ্যে একটি বেছে নিতে হতে পারে। ফলে কিছু সদস্যের পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বিতরণসংক্রান্ত অভিযোগ ওঠার পর তাদের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।


Side banner
Link copied!