বরিশালের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৫ ডিসেম্বর জনস্বার্থে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে অভিযোগ করেছেন একজন ব্যক্তি।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়,পিরোজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের দুর্নীতির অভিযুক্ত ও বিতর্কিত প্রধান সহকারী সুলতানা খামন'র এর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি,অনিয়ম তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়(স্মারক নং-১৮৩৭, তারিখ- ১৪/০৯/২০)। বিভাগীয় মামলার খসরা প্রেরণ ১৩.০১.০০০০.০০০.২৭.১৪০.১৫.১৮৬৮(১৫/০৯/২০২০)।যা ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।এরপর তাকে প্রশাসনিক বদলী হয় যার স্মারক নং ১৩.০১.০০০০.০০০.১৯.০০৪.১৪.১৮৬৪(১৫/০৯/২০২০)।
অথচ, তথ্য অধিকার আইনানুযায়ী লিখিতভাবে ২২/১০/২২ ও আরেকটি তথ্য ফরম ৮/১১/২২ এ জানিতে চাহিয়া ফরম 'ক' এর লিখিতভাবে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উত্তরের মাধ্যমে জানা যায় যে, অভিযুক্ত সুলতানা থানম ৪/২/২২ এ পুনরায় তদন্তের আবেদন করেছিলেন।দীর্ঘ সাত মাস পর ৮/৯/২২ তারিখ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পিরোজপুর পুনরায় তদন্ত অগ্রগামী করার জন্য চিঠি দেয় কতৃপক্ষের কাছে।তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ার পরে এবং একাধিক আঞ্চলিক পত্রিকায় ৭/১১/২২ তারিখ সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত তড়িঘড়ি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় অভিযুক্তকে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে,২৬/১০/২২ তারিখ ব্যাখা তলব করেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক। ২৭/১০/২২ তারিখ অভিযুক্ত সুলতানা জবাব প্রেরণ করেন।৩০/১০/২২ তারিখ জবাব গ্রহন করে অগ্রগামী করার জন্য চিঠি দেন।সর্বশেষ ৮/১১/২২ তারিখ জবাবে সন্তুষ্ট হয়ে ১৪৭/১(৪) স্মারকমূলে শুধুমাত্র 'সতর্ক' করে আত্মসাৎকৃত নগদ অর্থের উপযুক্ত শাস্তি না দিয়েই অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, অভিযোগ তদন্তের সময় ১ম তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে ও ২য় তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে লিখিত ও মৌখিকভাবে যে সব অভিযোগকারী ও সাক্ষীরা উপস্থিত হন,তাদের কারও পুনরায় তদন্তের সময় উপস্থিত হওয়ার কোন প্রমাণ মেলেনি।
এছাড়াও,ব্যাংকের লেনদেন সংক্রান্ত সকল তথ্য, দালিলিক প্রমাণ,সাক্ষীদের সাক্ষ্যদান ও চুরান্ত কথিত তদন্তে প্রমানিত একমাত্র দুর্নীতি,অনিয়ম ও অসদাচরণ ১,৭৬,৯৫৯ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে(৫/৭/২০২০) আত্মসাৎ ও ঘটনার জানাজানি হলে ২৪ দিনের দিন তা ফেরত ।(৩০/৭/২০২০)দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এখানে নিয়মানুযায়ী ব্যাংকে একটি চেকের মাধ্যমে টাকা তুলে একই ব্যাংকে একইসাথে সরকারি খাতে টাকা জমা দেয়া সম্ভব।অথচ, অভিযুক্তের দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী তিনি অসুস্থতাজনিত কারনে ও করোনা রোগের ভয়ে উত্তোলিত অর্থ জমায় ব্যর্থ হন ;এমন যুক্তি অবান্তর।
অভিযুক্ত আরও জবাবে লেখেন যে,টাকা জমা দেয়ার এই প্রক্রিয়া নতুন ছিল। অথচ, ২০১৯ সালেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লেনদেন হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।
এদিকে, প্রথম তদন্তে অভিযুক্ত লিখেছেন জনৈক কালাম মোল্লা অসুস্থ ও তার মেয়ের বিয়ের কারনে টাকা জমা যথাসময়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি, অথচ ২য় তদন্তের রিপোর্টে তিনি জবাবে লিখেছেন যে তিনি নিজেই অসুস্থতাজনিত কারনে টাকা জমা দেননায়।
তদন্ত রিপোর্টের বিষয় বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর আলমকে জানতে চাইলে তিনি ফোনে কোন বক্তব্য না জানতে চেয়ে অফিসে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :