চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবায় অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ তদারকির অভাবে ক্লিনিকটির কার্যক্রম ভেঙে পড়ার মুখে, ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলার ৫ নম্বর উপাধি উত্তর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ডিঙ্গা ভাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এমন চিত্র উঠে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিকটির কার্যক্রমে শৃঙ্খলার অভাব থাকলেও তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. আবু ইউসুফ মিয়া (মামুন) নিয়মিতভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। একই সঙ্গে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতেও ব্যর্থ হচ্ছেন তিনি। ফলে প্রতিদিনই বহু রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন ক্লিনিক খোলা থাকে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ না করায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যারা এই ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রোভাইডার আবু ইউসুফ মিয়া (মামুন) জানান, বিভিন্ন সময় দাপ্তরিক সভা ও অন্যান্য কাজে বাইরে থাকতে হয়। তবে নীতিমালা অনুযায়ী, কমিউনিটি ক্লিনিক সপ্তাহে ছয় দিন (শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চালু থাকার কথা। পাশাপাশি ইউনিয়নভিত্তিক স্বাস্থ্য সহকারী তিন দিন এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারী দুই দিন সেবা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সে হিসেবে প্রতিদিন অন্তত দুজন স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণেই তারা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম রায়হান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :