সৌদি আরবের (এসএফডিএ) জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা মান জোরদারের লক্ষ্যে ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট প্রদেশ ও শহরের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি—বিশেষত পোল্ট্রি খাতে সংক্রামক রোগের বিস্তার—পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক পশু রোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ২০০৪ সাল থেকে কিছু দেশ ধাপে ধাপে এ ধরনের কড়াকড়ির আওতায় রয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মায়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিশর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট ও মন্টিনিগ্রো।
অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের নির্দিষ্ট অঞ্চল এই কড়াকড়ির আওতায় পড়েছে।
তবে নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস নির্মূলে যথাযথ তাপ-চিকিৎসা বা অনুমোদিত প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করা মুরগি ও সংশ্লিষ্ট পণ্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে উৎপত্তিস্থলের সরকারি কর্তৃপক্ষের জারি করা স্বাস্থ্য সনদে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রক্রিয়াটি ভাইরাস কার্যকরভাবে ধ্বংস করেছে।
এসএফডিএর ভাষ্য, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য দেশীয় বাজারে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধ করা। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :