সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহযাত্রী। আহত ব্যক্তিরা রিয়াদের অন্তত ১১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ওমরাহযাত্রী হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
নওগাঁর রাণীনগরের সাফফাত রহমান ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের দাউদুল ইসলাম ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। তাঁরা ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ট্রানজিটে ছিলেন। এ ছাড়া রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল, প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল, সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল, কিংডম হাসপাতাল, কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি, প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা চলছে।
হামলার পর বিমানবন্দর ও সৌদি আরবের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে সহায়তা দিয়েছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস। বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইনসে ভ্রমণকারী এবং অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ১০০ যাত্রীর জন্য রিয়াদের ম্যারিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা ইউনিভার্সিটির ডরমিটরিতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
এ ছাড়া এহরাম পরা ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে। সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি-৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাহরাইনগামী দুই কর্মীকেও স্থলপথে যাত্রায় সহায়তা দিয়েছে দূতাবাস।
এর আগে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাঁদের একজন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের শাহেদ আহম্মেদ। তিনি রিয়াদের সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।
নিহত অপর বাংলাদেশি নাসরুল্লাহ বদরপুরি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ট্রানজিটের সময় তিনি রিয়াদ বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
এদিকে হামলার কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী অন্তত আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ থাকায় বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সৌদিগামী যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি হামলার দাবি ওঠে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :