• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় গতি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম এখন যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থার কাছাকাছি নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৬ ডলার বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৭৬ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর ফলে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজারে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্টের দাম কিছুটা বেশি থাকায় বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহের ইঙ্গিত মিলছে।

বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আভাস পাওয়ায় দামের পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

এর আগে বুধবারও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার করে কমে যায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এখন প্রায় যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ জলপথ দিয়ে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। তবে প্রণালির কিছু এলাকায় মাইন অপসারণের কাজ চলমান থাকায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল হওয়া এবং দেশটির তেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ওমান কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার সহযোগিতায় ট্যাংকার চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে অস্থায়ী নৌপথ চালু করেছে।

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৭ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম প্রায় ৬২ ডলারে নেমে আসতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত গত সপ্তাহে ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে এ তথ্যের প্রভাব তেলের দামে খুব বেশি পড়েনি।


Side banner
Link copied!