• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

রিসোর্টকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মামুনুল হক


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
রিসোর্টকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক পাঁচ বছর আগে আলোচিত নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টকাণ্ড ও তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই ঘটনা ছিল তৎকালীন সরকারের পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্প এবং তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি অভিযান।

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে মামুনুল হক বলেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরাকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে তাকে এবং তার স্ত্রীকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায় যে পুরো এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে। পরে কক্ষের দরজা খোলার পর কয়েকজন জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ডিভাইসে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। পরিস্থিতির মধ্যে স্ত্রীকে নিরাপদ রাখতে তিনি ওয়াশরুমে রাখলেও সেখানেও নারী পুলিশ সদস্য প্রবেশ করেন বলে দাবি করেন।

মামুনুল হক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ও জান্নাত আরা নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানান। তিনি আরও দাবি করেন, প্রথমে তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হলেও পরে তথ্য যাচাইয়ের জন্য সেটি ফেরত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাদের থানায় নেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা

ফেসবুক পোস্টে জান্নাত আরার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন মামুনুল হক। তিনি জানান, জান্নাত আরা আগে তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদ হলে তিনি শরিয়তসম্মতভাবে জান্নাত আরাকে বিয়ে করেন বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, একাধিক বিয়ে সামাজিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। প্রথম পরিবারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে— এমন আশঙ্কা এবং প্রচলিত আইনি জটিলতার কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন।

‘মুতা বিয়ে’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

নিজের বিরুদ্ধে প্রচারিত ‘মুতা বিয়ে’, ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ কিংবা ‘সাময়িক বিয়ে’র অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন মামুনুল হক। তার ভাষ্য, জান্নাত আরার সঙ্গে তার বিয়ে ছিল পূর্ণাঙ্গ শরিয়তসম্মত ইসলামি বিয়ে।

তিনি আরও জানান, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। পরে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এবং নিজের কারাবাসের সময়ও তিনি জান্নাত আরার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করেন।

পরিচয় গোপনের কারণ ব্যাখ্যা

রিসোর্টে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রথম স্ত্রীর নাম এবং জান্নাত আরার পরিচয়পত্রে সাবেক স্বামীর নাম থাকায় পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

প্রথম স্ত্রীকে ফোনে জান্নাত আরাকে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রী আগে থেকেই ওই পরিচয়ে জান্নাত আরাকে চিনতেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতেই তিনি সেই পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন।

রাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, রিসোর্ট ঘটনার পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন এক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান তাকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

এছাড়া জান্নাত আরা, তার পরিবার এবং সাবেক স্বামীর ওপরও বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‘৫০১’কে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ

পোস্টের শেষাংশে মামুনুল হক বলেন, ‘৫০১’ তার কাছে কোনো নেতিবাচক প্রতীক নয়; বরং এটি তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক পরিকল্পনার ব্যর্থতার স্মারক। ভবিষ্যতে ‘৫০১’কে তারা বিজয়ের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্যের কারণে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চরিত্রহননের চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে এসব প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি বলেও পোস্টে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক ২০২১ সালের আলোচিত রিসোর্টকাণ্ড ও ‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গ উত্থাপন করার পর বিষয়টি আবারও জনআলোচনায় আসে। এরই প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এই দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট প্রকাশ করেন মাওলানা মামুনুল হক।


Side banner
Link copied!