• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৮ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

মোটর মেকানিক থেকে ‘সাংবাদিক’—রিদয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২৫, ১২:২৮ পিএম
মোটর মেকানিক থেকে ‘সাংবাদিক’—রিদয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ

পরিচয় দানকারী সাংবাদিক একসময়েে ডামুড্যা বাসস্ট্যান্ডে মোটরসাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন । পরবর্তীতে ঢাকার গোলবাগ এলাকার মোটরসাইকেলের সিনিয়র মেকানিক হিসাবে কাজ করে বেশ পরিচিতি লাভ করেন শরীয়তপুরের সাংবাদিক আশিকুর রহমান রিদয়। মোটর মেকানিক সাংবাদিক শরীয়তপুর ডামুড্যা উপজেলার নান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা মলয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুল মাদবরের মেঝো ছেলে। রিদয় গোলবাগ পুলিশ কোয়ার্টারের সাথেই মেসার্স সিয়াম মটর্স এর সিনিয়র মেকানিক ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় লেখাপড়া ৫ম শ্রেনী,সাংবাদিক পেশায় এসে সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অর্থের বিনিময়ে মেট্রিক এবং ইন্টারমিডিয়েটের জাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।তবে ঢাকার সেই মেকানিক আজ শরীয়তপুরের কথিত সাংবাদিক নামে ব্যাপক আলোচিত । গেলো দু বছর আগেই গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যায় পরিবার নিয়ে চলে আসেন। এরপর থেকেই মোটরসাইকেল মেরামতের কাজের পাশাপাশি শুরু করলেন সাংবাদিকতা। শরীয়তপুরের টেলিভিশন ও পত্রিকার সাংবাদিকদের সাথে মিশে বনে গেলেন কথিত এই সাংবাদিক আশিকুর রহমান রিদয়। তবে জেলায় কেউ আশিকুর রহমান রিদয় ও রাশেদুল ইসলাম এবং আশিক নামে চিনে। ছদ্মনাম ব্যবহার করে মানুষকে বোকা বানানোই তার কাজ! গেলো ২০২২ সালে শরীয়তপুরে এক সাংবাদিকের স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি মামলা হয়। মামলাটির বাদি ভুক্তভোগী ওই নারী ফারহানা চৈতি। মামলানং ৪৯/২২ পালং। পুলিশের তদন্তেও প্রমাণিত প্রতিবেদন দেয়ার পর বিচার কার্যক্রম চলছে। 

 

আশিকুর রহমান রিদয় ১ ডজন পত্রিকার প্রতিনিধিও বটে । বার্তাবাজার অনলাইন,দৈনিক আমার সংবাদ,দৈনিক বাংলাদেশের আলো,দৈনিক ঢাকা টাইমস্, ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক রুদ্র বার্তা,শরীয়তপুর প্রতিদিন ফেসবুক পেইজ, সংবাদের পাতা সহ আরোও অজস্র পত্রিকা। 

 

শুধু তাই নয় ছাত্র না হয়েও যাত্রাবাড়ী থানা ৪৯ নং ওয়ার্ড শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন । ডামুড্যায় আওয়ামী লীগ নেতা অবৈধ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ গোলন্দাজ তার চাচা। সেই সুবাদেও তিনি চাঁদাবাজিতে চ্যাম্পিয়ন। চাচার ক্ষমতায় অনেক নারীদের সাথে সক্ষতা গড়ে সংসারও ভেঙেছেন । পরোকিয়ার এই নায়ক রিদয়ের বিরুদ্ধে ফেসবুকেও বিভিন্ন নারীদের সাথে অশ্লীল ছবি ভাইরাল হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঘোল পাল্টিয়ে এখন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের সাথে তাল মিলিয়ে অপকর্ম করছেন। তবে গোপন সুত্রে জানা যায়, সে এখনো আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ গোলন্দাজ ও এমপিদের গ্রুপে যুক্ত থেকে শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্তিরতা ও দেশদ্রোহীতা করছেন। দ্রুত এই রিদয়কে বিচারের আওতায় না আনা হলে অচিরেই আরোও সমস্যা হতে পারে।

 

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, আমার জীবন শেষ করেছে এই রিদয়। আমাকে বিয়ের প্রলোভনে অনেকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছে। আমি বিচার পাইনি। সে এখন সাংবাদিক।পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মোটর মেকানিক সাংবাদিক হয় কি করে।এটা আমার শরীয়তপুরের সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন?    

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুমি কর্মকর্তা বলেন,এ রিদয় আমাকে ভয় দেখিয়ে প্রতি মাসে চাঁদা নিত। এক মাস দিতে রাজি না হওয়ায় সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট কথা ফেসবুকে ছড়িয়েছে। আর একজন মোটর মেকারিক ম্যান সে কি করে সাংবাদিক পরিচয়ে ঘোরে। আমি চাই তার বিচার হউক।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমার বাড়ির পাশে দিঘির ধারে রিদয় গাঁজার পোটলা রেখে সে উল্টো আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার চালায়। এতে আমার সম্মানহানি হয়েছে। আমি তার বিচার চাই।


Side banner

সারাবাংলা বিভাগের আরো খবর

Link copied!