• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনঃ স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা


FavIcon
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ০৮:০২ পিএম
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনঃ স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘ চার বছর যাবত স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে, অবশেষে যৌতুক লোভী স্বামী বিজিবি সদস্য ফারুক আহমেদ ও তার বোন বুবলী সহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করলো নির্যাতিতা স্ত্রী। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা মেজেষ্ট্রেটকে তদন্তপূর্ব ব্যবস্হা নিতে নির্দেশ দেন।  ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ আগষ্ট  সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ  ট্রাইবুনালের  ২ নং কোর্টে মামলা নং- ৪১২/১৯ ।প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়।  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ইং তারিখে। জানপুর নির্বাসী সাংবাদিক মাসুদ রানার কন্যা ইশরাত জাহান শ্রাবণীর সাথে রায়গঞ্জ থানাধীন পাঙ্গাশী  ইউনিয়নের নিজামগাতী গ্রামের মৃতঃ আবুবকর শেখের পুত্র বিজিবি সদস্য ফারুক আহমেদের ইসলামি শরিয়া মোতাবেক ৭৫ হাজার ১০০ টাকা দেন মোহর ধার্য্য পূর্বক বিবাহ হয়।বিবাহের সময় উক্ত বিজিবি সদস্য ফারুক আহমেদের সরকারি ভাবে বিবাহের অনুমতি না থাকার বিষয়টি গোপন করে।এবং নিজ স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যেতে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। পরবর্তীতে মেয়ের পিতা তার জামাতা ফারুক আহমেদের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায় ঘরের জিনিস পত্র তো দূরে থাক। ঘরের কোন দরজাও নেই। পরবর্তীতে মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে। ঘরের দরজা, ফ্রীজ,শোকেজ, সহ ঘরের আসবাবপত্র কিনে দেয়। এতেও মন ভরেনি যৌতুলোভী স্বামী ও তার বড়ো বোন সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা  । আরো যৌতুকের লোভে স্ত্রীকে মারধোর করে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। ৪ বছর বাপের বাড়িতে কাটানোর পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পিত্রালয় থেকে স্বামী বিজিবি সদস্য ফারুক আহমেদের সাথে সংসার করার স্বপ্ন নিয়ে। স্বামীর কর্মস্থল যশোরের কোতোয়ালি থানাধীন ঝুমঝুমপুরের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আবু বক্কার সিদ্দিকের ভাড়া বাসায় যায়। সেখানে বড় বোন বুবলী ও তার পরিবারের সদস্যদের কথা মত শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।গত রোজায় চিকিৎসার জন্য উক্ত বিজিবি সদস্য  ফারুক আহমেদ ঢাকা যায়। সেখানে এক নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। ঐ নারীর ঢাকায় দুটি বাড়ি দশ লাখ টাকার মোহে পরে। নিজের স্ত্রী সন্তানের কথা ভূলে যায়। ওই মেয়ের সাথে একাধিক ঘনিষ্ট মুহূর্তের ছবি ইমোতে আদান-প্রদান হয়।সেই ছবি ফারুক তার বন্ধু বিজিবি সদস্য সেলিমকে জানায়।এবং উক্ত ফারুক ঐ নারীকে বিবাহ করিবে বলিয়াও জানায়। সেলিম উক্ত ফারুককে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়।যা ওই গৃহবধূর পিতা সেলিমের সাথে ফোনে কথা বলে নিশ্চিত হন।যা নির্যাতিত গৃহবধুর পিতার মোবাইলে ধারন কৃত।  এমতাবস্থায় ৯জুলাই রাত আনুমানিক ১১ঘটিকায় উক্ত ভাড়া বাসার ফ্লাটে স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্য মারপিট করতে থাকে। সেখানে তার ১৩ বছরের শ্যালিকা বাঁধা প্রদান করিলে তাকেও মারধোর করে তাদের কান্নাকাটি ও  ডাক চিৎকারে  পার্শ্বের ফ্ল্যাটের অন্যান্য বিজিবি পরিবারের সদস্যরা দরজা খোলার জন্য একাধিকবার দরজায় আঘাত করে।পরে ১৩ বছরের শ্যালিকা চৈতী কোন মত দরজার হুক খুলিলে ফ্ল্যাটের লোকজন ঘরে প্রবেশ করিলে তারা রক্ষা পায়।তাৎক্ষনিক চৈতী ফোন করে বিষয়টি তার বাবা সাংবাদিক মাসুদ রানাকে কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায় এবং তাদের যশোর থেকে  নিয়ে যেতে বারবার অনুরোধ করে। যেহেতু সিরাজগঞ্জ  থেকে যশোরের দূরত্ব ৬/৭ ঘন্টার পথ এবং রাতে গাড়ি না থাকার কারনে তিনি বিষয়টি যশোর কোতয়ালি থানার ওসিকে ফোনে বিষয়টি অবগত  করেন। এবং তার দুই মেয়েকে উদ্ধারের জন্য বার বার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে ওসি সাহেব আশ্বাস দিলেও তিনি তাদের উদ্ধারের ব্যবস্তা করেননি। পরবর্তীতে ওসিকে পুনরায় ফোন দিলে তিনি বিজিবি ৪৯ ব্যাটালিয়ানের টু আই সি মেজর নজরুল সাহেবের  ০১৭৬৯৬০৪১১১ নাম্বারে যোগাযোগ করতে বললেন।সাথে সাথে নির্যাতিতার পিতা ফোন করে তার সাথে যোগাযোগ করে।তাকে ঘটনা খুলে বলেন এবং তাঁর দুই মেয়েকে উদ্ধারের আকুতি জানান। তিনি ব্যাপারটা দেখছি বলেলেও তিনি নির্যাতিতা দুই বোনকে উদ্ধারের ব্যবস্হা করেননী। এমন কি ঘটনা স্হলে কোন লোক পাঠিয়ে ঘটনা জানার চেষ্টা করেননি। পরবর্তীতে হতাশ হয়ে উক্ত সাংবাদিক তার ভেরিফাই ফেসবুকে প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।সেখানে তিনি প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা এবং মেয়েদের উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে ব্যার্থ হওয়ার বর্ননা সহ লেখেন। যে দেশে একজন সাংবাদিক তার নির্যাতনের শিকার মেয়েদের উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে পায় না। সেদেশের সাধারণ জনগণ প্রশাসনের কাছে কি সহযোগিতা আশা করবে। পরে তিনি উক্ত বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে ফোনে অনুরোধ করেন তার মেয়েদের আশ্রয় দেয়ার জন্য।তখন অপর ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া বিজিবির হাবিলদার বনি আমিনের ঘরে আশ্রয় নেয়।             ৭ আগষ্ট ২০১৯ইং তারিখে উক্ত পাষান্ড স্বামীর সাথে ঈদুল আজহার ছুটিতে স্বামীর গ্রামের বাড়ি নিজামগাতী গেলে। ১৩ আগষ্ট সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় যৌতুকের দাবিতে স্বামী ফারুক আহমেদ, ননসাস বুবলী সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য গৃহবধূকে মারধোর করিয়া পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। ১৮ আগষ্ট উক্ত ফারুক আহমেদের দুই চাচা আবুল কালামআজাদ, শফিকুল ও ননসাস জামাতা কামরুল ইসলাম। নিজেদের জিম্মায় উক্ত গৃহবধুকে নিতে আসে। এবং ভবিষ্যতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবেনা মর্মে গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করিলে। তাহারা সরল বিশ্বাসে তাদের সঙ্গে গৃহবধুকে পাঠায়। ২৫ আগষ্ট পুনরায় গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার হলে।২৭ আগষ্ট গৃহবধূ নিজে বাদী হইয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতের শরণপন্ন  হয়।  



Side banner