• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, আলোচনায় ‘ই–জিপি মনির’


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, আলোচনায় ‘ই–জিপি মনির’

ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে টেন্ডার কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপ–সহকারী প্রকৌশলী এ. কে. এম. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে এবং কোনটি বাদ পড়বে—এ ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব খাটান বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় ফাইল সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা বা পরিবর্তনের মতো অনিয়মও করা হয় বলে দাবি করেছেন কিছু ঠিকাদার।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ বাস্তবে না হলেও কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে তাদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে কয়েকটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগের জেরে সম্প্রতি কয়েকজন ঠিকাদার প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শাহবাগ এলাকার এক রাজনৈতিক নেতার ঘনিষ্ঠ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রাসেল এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে প্রায় দুই কোটি ৩৭ লাখ টাকার একটি কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি এলাকার একটি বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ফরিদপুরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইব্রাহিম এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে একটি মহিলা পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগেও রাজধানীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্প একই প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে মনিরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ এক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসব সিদ্ধান্ত একা কোনো কর্মকর্তার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করতে হয়।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে উপ–সহকারী প্রকৌশলী এ. কে. এম. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা সত্ত্বেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


Side banner

অপরাধ বিভাগের আরো খবর

Link copied!